নবদ্বীপ শ্মশানে চালু হল তৃতীয় ইলেকট্রিক চুল্লি
দি নিউজ লায়নঃ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শনিবার নবদ্বীপ শ্মশানে চালু হল তৃতীয় বৈদ্যুতিক চুল্লী। স্থানীয় লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ তৃণমূলের তাপস মণ্ডলের আমলে তাঁরই অর্থানুকূল্যে শবদাহের জন্য ওই চুল্লির কাজ শুরু হয়। শনিবার বিকেলে প্রায় এক কোটি বিয়ল্লিশ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওই চুল্লির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে তাপস মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন নবদ্বীপের বিধায়ক পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা, পুরপ্রশাসক বিমানকৃষ্ণ সাহাসহ বহুবিশিষ্ট ব্যক্তি। প্রিয়জনের শেষ ইচ্ছার মর্যাদা দিতে দূরদূরান্ত থেকে মৃতদেহ নিয়ে নবদ্বীপের শ্মশানে আসা বহুকালের রীতি।
এখানে গড়ে প্রতিদিন পঞ্চাশটি মৃতদেহ দাহ হয়। শীতকালে নবদ্বীপ শ্মশানে দেহ সৎকারের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। লাইন লেগে যায় মৃতদেহ সৎকারের। স্বাভাবিক ভাবেই দীর্ঘাক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। তখন বাধ্য হয়ে অনেকেই বেছে নেন কাঠের চিতা। চিতায় দাহ করতে ঘণ্টা চারেক সময় লাগে। যদিও চিতায় দেহ সৎকারের খরচ চুল্লির থেকে তিনগুণ বেশি। বহু পরিবারের এই খরচ করার সামর্থ্য থাকে না। ফলে তাঁরা বাধ্য হন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে। সেই সমস্যা মেটাতেই আরও চুল্লির পরিকল্পনা। অনেক বছর ধরে টানা কাজ করে চলা নবদ্বীপের বর্তমান দুটি বৈদ্যুতিক চুল্লি মাঝে মাঝেই বিগড়ে যাচ্ছে। দুটি চুল্লির পর্যায়ক্রমে সংস্কার করতে হয়। তখন একটি চুল্লি নির্ভর শ্মশানের অবস্থা অবর্ণনীয় হয়ে ওঠে।
সাধারন ভাবে চুল্লিতে একটি দেহ সৎকার হতে পঞ্চাশ থেকে পঞ্চান্ন মিনিট সময় নেয়। কিন্তু এখন যেটি চালু আছে তাতে সৎকারে প্রতিটি দেহ সৎকারে এক ঘণ্টা পনেরো-কুড়ি মিনিট সময় নিচ্ছে। ফলে সৎকারের জন্য সাত-আটটা দেহ হয়ে গেলেই দশ ঘণ্টা অপেক্ষা। চিতায় দাহ করার জন্য উপযুক্ত ডোম পাওয়া বিরাট সমস্যা। নবদ্বীপ কাঠের চিতায় দাহ করার ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অত্যাধুনিক নতুন চুল্লি অনেকটাই সুরাহা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। চুল্লির ভারপ্রাপ্ত বাস্তুকার সুরেশ বেরা জানান, “দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে এতে। একটি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের সাহায্যে চুল্লির ধোঁয়া জলের মাধ্যমে শোধন করে একশ ফিট উঁচু পাইপ দিয়ে নির্গত হবে। যা থেকে কোনরকম দূষণ ছড়াবে না।” নবদ্বীপের পুরপ্রশাসক বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন “নতুন ভবনে দুটি চুল্লির পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। আপাতত একটি চুল্লি সাধারণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হল।

Post a Comment